শ্রীশ্রীঠাকুর মাধব পাগলাকে বলিলেন—আপনি আমার নাম করিয়া যাহা হাতে লইবেন তাহাই আমি পাইব।

 জয় জয় শ্রীশ্রী রামঠাকুর

শ্রীশ্রীঠাকুর মাধব পাগলাকে বলিলেন—আপনি আমার নাম করিয়া যাহা হাতে লইবেন তাহাই আমি পাইব। মনে রাখিবেন—তাহা আমারই নেওয়া হইবে। ইহাই গুরুতাদাত্ম্য প্রাপ্তির সুস্পষ্ট লক্ষন।
ইং ১৯৩৯ সাল মাধব পাগলা যঁদুলাল বন্দোপাধ্যায়ের এলোপ্যাথিক ঔষধের দোকানে (দোকানটির নাম—ব্যানার্জী কোম্পানি,চক্ বাজার, বেনারস) গিয়া দেখেন যদুবাবু চিন্তিত ও বিষন্ন।মাধব পাগলা কারন যানতে চাইলে তিনি বলিলেন দোকানের বিক্রী বাট্টা না থাকিলে সংসার কি করিয়া চলিবে তাই চিন্তা করিতেছি।
মাধব পাগলা হাসিয়া বলিলেন—আমার ঠাকুরকে পেয়ারা খাওয়ান তাহা হইলেই বিক্রী হইবে। যদুবাবু এই সব ব্যাপার বিশ্বাস করিতেন না। কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর চাকরকে দিয়া এক আনায় দুটি বড় পেয়ারা আনাইয়া মাধব পাগলার হাতে দিয়া বলিলেন বাড়ী গিয়া আপনার ঠাকুরকে ভোগ দিন। মাধব পাগলা বলিলেন এখানে বসিয়াই ঠাকুরকে পেয়ারা খাওয়াইব। এই বলিয়া পেয়ারা দুইটি জলে ধুইয়া ছুরি দিয়া টুকরো করিয়া একখানা কাগজে রাখিয়া নুন মাখিয়ে দুভাগ করিয়া এক ভাগ যদুবাবুকে দিলেন ও এক ভাগ নিযে খাইতে লাগিলেন।
যদুবাবু মাধব পাগলার এই কান্ড দেখিয়া বিরক্ত হইয়া বলিলেন—মিথ্যা বলিয়া ঠাকুরের নাম করিয়া পেয়ারা খাওয়ার কি দরকার ছিল ? আপনার যদি খাওয়ার ইচ্ছা ত আপনাকেই খাওয়াইতাম।
মাধব পাগলা বলিলেন ঠাকুর খাইয়াছেন আপনি প্রসাদ খান। যদুবাবু রাগতভাবে কহিলেন—আপনার এই প্রকার ভন্ডামি দেখিয়া আপনার প্রতি অশ্রদ্ধাই জন্মিল। মাধব পাগলা যদুবাবুর তিরস্কার গ্রাহ্য না করিয়া হাসিতে হাসিতে বলিলেন ঠাকুরের প্রসাদ খান প্রমান নিশ্চয়ই পাইবেন। দোকানের বিক্রি ভাল হলে মানিবেন ঠাকুর পেয়ারা খাইয়াছেন।
যদুবাবু বলিলেন হাঁ,তবে মানিব। দুজন স্নানাহারের জন্য বাড়ি রওনা হইলেন। পথে যদুবাবু বলিলেন—বড়ই দুঃখের বিষয়,আজকাল আর সাধু দেখা যায় না। সবই শিক্ষিত ভদ্রবেশধারী বেইমান ও জুয়াচোর। মাধব পাগলা চুপ করিয়া রহিলেন।
যদুবাবু দোকানে আসিলে খরিদ্দারের ভীড় আরম্ভ হইল। বেলা ৪টা হইতে ৮টার মধ্যে ১২৩ টাকার ঔষধ বিক্রি হইল। যেখানে রোয ৪০ টাকার বেশি হইত না। রাত্রি প্রায় ৯টা মাধব পাগলা আসিয়া দেখিলেন যদুবাবুর হাসিমুখ।মাধব পাগলা যদুবাবুকে জিজ্ঞাসা করিলেন কি ঠাকুর পেয়ারা খাইয়াছেন তো? যদুবাবু বিস্ময়ে বলিলেন এত ভাল বিক্রী আমার ছ মাসের মধ্যেও হয় নাই।
*“““মাধব পাগলা ক্ষুব্ধ হইয়া বলিলেন—আশা করি, ভবিষ্যতে আমার ঠাকুর সম্বন্ধে আর কোনরূপ অন্যায় মন্তব্য করিবেন না। আপনারা ভুল বশঃত সাধুকে বৃথা দোষারোপ করিয়া থাকেন। যথার্থ সাধুর দর্শন পাওয়ার ভাগ্য থাকা চাই এবং চিনিতে পারার যোগ্যতা প্রয়োজন। সাধুকে অসাধু মনে করিয়া অবজ্ঞা করিলে অবজ্ঞা-কারীরই অনিষ্ট হয়।"""*
গুরুতাদাত্ম্য প্রাপ্তি এই অবস্থায় গুরু শিষ্যে অভেদভাব স্থাপিত হয়।কিন্তু ইহা অতীব দুর্লভ। আমার প্রাণের রাম ঠাকুর।
জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏🙏🙏

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items