No title

  কৈবল্যধাম সম্পর্কিত সমস্ত প্রকার দলিল দস্তাবেজ ,

নথি , কাগজ পত্রাদিতে ধামের নিজস্ব সিলমোহর ছাপাঙ্কিত থাকিবে " । : - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর । জয় রাম জয় গোবিন্দ । সুপ্রভাত শুভেচ্ছা । চল্লিশ দশকের প্রারম্ভে একবার শ্রীশ্রীঠাকুর আসিলেন কলিকাতায় কুঞ্জ মজুমদার মহাশয়ের গৃহে । ঠাকুরের আগমনে প্রতিদিন নিয়ত ভক্ত সমাগম হইতেছিল । তৎকালীন কলিকাতার সুবিখ্যাত ব্লক মেকার শ্রীযুক্ত ক্ষীরোদ মল্লিক মহাশয় আসিলেন একদিন ঠাকুর দর্শন করিতে । সেখানে পূর্ব্বেই উপস্থিত ছিলেন সুচন্দ্রদন্ডী গ্রাম নিবাসী শ্রীযুক্ত ইন্দুভূষণ চক্রবর্তী । ইন্দুভূষণ বাবু ছিলেন একজন চিত্রকর ও চারু শয্যাকর । তৎকালে ইন্দুভূষণ বাবু ঠাকুরের উৎসবাদিতে চারুশয্যা ও চিত্র শিল্প দ্বারা উৎসব প্রাঙ্গণ সুসজ্জিত করিয়া সকলের সুখ্যাতি অজ্জন করিয়াছিলেন। সেদিন কথা প্রসঙ্গে ঠাকুর মহাশয় উপস্থিত ভক্ত সমক্ষে মত প্রকাশ করিলেন যে কৈবল্যনাথের একটি সিলমোহর থাকা উচিত । সিলমোহরে শ্রীগরুড়দেবের মূর্ত্তি থাকিবে । ক্ষীরোদ মল্লিকবাবুর দিকে চাহিয়া ঠাকুর বলিলেন , " সিলমোহরের ব্লক আপনি বানাইয়া দিবেন " । ইন্দুভূষণ বাবুকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন , " সিলমোহরের গরুড়দেবের চিত্র আপনে আঁইকা দিবেন " । ইন্দুভূষণ বাবুকে গরুড়দেবের চিত্র কেমন হইবে তাহাও ঠাকুর মহাশয় বিশদভাবে বুঝাইয়া দিলেন । যেমন গরুড়ের দক্ষিণ পদের হাঁটু নত হইয়া ভূমি স্পর্শ করিবে , বাম পদের হাঁটু উদ্ধমুখী হইয়া চরণ প্রান্ত ভূমিতে স্পর্শ করিয়া থাকিবে । দুই হস্ত থাকিবে যুক্ত ভাবে গুরু প্রণাম ভঙ্গিতে । ইত্যাদি বর্ণনা দিয়া ঠাকুর নিজেই বিছানার উপরে সেই ভঙ্গিমায় বসিয়া ইন্দুভূষণবাবুকে নিপুণ ভাবে বুঝাইয়া দিলেন । তারপর উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে ঠাকুর মহাশয় বলিতে লাগিলেন , '' কৈবল্যধাম সম্পর্কিত সমস্ত প্রকার দলিল দস্তাবেজ , নথি , কাগজ পত্রাদিতে ধামের নিজস্ব সিলমোহর ছাপাঙ্কিত থাকিবে " । কালচক্রে সবই হইয়াছিল কিন্তু ঠাকুরের এই বাক্য , যথাযথ ভাবে পালন করিতে কেহই উৎসাহিত হয় নাই । অদ্যাবধি তাহা পালিতও হয় নাই । সদানন্দ চক্রবর্ত্তী । " ছন্নাবতার শ্রীশ্রীরামঠাকুর " পৃষ্ঠা ২৪৪. হইতে ।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items