আমাদেরও কি তাহা হইলে আপনাকে
পূজা করিতে হইবে ? :- - - রোহিণী কুমার মজুমদার । 🌸জয় গুরু 🌸 জয় রাম । 🌸গুরু কৃপাহি কেবলম 🌸 শুভসকাল 🌸 শ্রীঠাকুরকে তখন আমরা পূজা করিতাম না । তাঁহাকে পূজা করিতে হয় এই বিশ্বাস বাঁধিয়া উঠিতে পারে নাই । জানিতাম শুধু মূর্ত্তি পূজা । একদিন শ্রীঠাকুর প্রায় ১২টার সময় বেড়াইয়া ফিরিলেন । ঠাকুরের দেরি দেখিয়া আমরা খুবই চিন্তিত হইয়াছিলাম । শ্রীঠাকুরের পা ধুইয়া দিলাম । মাথা ধোয়াইবার সময় দেখিলাম তাঁহার মাথায় কোন কোন স্থানে চন্দন ও হলুদের ফোঁটা লাগিয়া আছে । শ্রীঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম , আপনার মাথায় চন্দন ও হলুদের ফোঁটা আসিল কোথা হইতে ? শ্রীঠাকুর যেন একটু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িলেন । বলিলেন , এখনও আছে নাকি ? কে এইগুলি দিয়াছে ? জিজ্ঞাসা করায় শ্রীঠাকুর বলিলেন , আমি বেড়াইতে বেড়াইতে একটা রাস্তা দিয়া যাইতেছিলাম । এমন সময় দেখি একটা বাড়ির দরজার সম্মুখে একভদ্রলোক ও তাঁহার স্ত্রী দণ্ডায়মান । আমাকে দেখিবামাত্র তাঁহার দুইজনেই আমাকে প্রণাম করিয়া ঘরের মধ্যে লইয়া গেলেন এবং একটি আসনে বসাইয়া পূজা করিলেন । তাঁহারা নাকি পূর্ব্বের রাত্রিতে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে স্বয়ং ভগবান তাঁহাদের পূজা লইবার জন্য আসিবেন । তাই তাঁহারা পূজার সমস্ত উপকরণ যোগাড় করিয়া প্রতীক্ষা করিতেছিলেন । পূজার সময় তাঁহারাই চন্দন ও জাফরানের ছিটা দিয়াছিলেন । সমস্ত মুছিয়া ফেলিয়াছি । মাথার চুলের মধ্যে যে চন্দন ও জাফরানের ফোঁটা আছে তাহা বুঝিতে পারি নাই । আমি জিজ্ঞাসা করিলাম , আমাদেরও কি তাহা হইলে আপনাকে পূজা করিতে হইবে ? শ্রীঠাকুর মাথা নাড়িয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিলেন । এই প্রথম আমি শিক্ষালাভ করিলাম যে , আমার এই ঠাকুর দেহধারী সামন্য মানব না । তিনি স্বয়ং ভগবান । যুগে যুগে তিনি মানবদিগকে ত্রাণ করিবার জন্য ধারায় আবির্ভূত হন । পরের দিন হইতে আমি শ্রীঠাকুরকে ফুল -বেলপাতা -চন্দন দিয়া পূজা করিতে আরম্ভ করিলাম । : ----রোহীনী কুমার মজুমদার " শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর " পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩ হইতে । ,